
ল্যাংড়া আম বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী আমের জাত, যা তার অনন্য স্বাদ, সুগন্ধ এবং আঁশবিহীন শাঁসের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। কথিত আছে, মুঘল সম্রাট আকবরের প্রিয় আমগুলোর মধ্যে ল্যাংড়া ছিল অন্যতম। এই জাতের উৎপত্তি ভারতের বেনারসে, যেখানে এক ল্যাংড়া ফকিরের নাম অনুসারেই আমটির নামকরণ করা হয় “ল্যাংড়া”। পরবর্তীতে এই সুস্বাদু আম বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে ল্যাংড়া আমের ব্যাপক চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের বড় আকৃতির সাদাটে ল্যাংড়া “দাঁড়াভাঙা ল্যাংড়া” নামে পরিচিত। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের ল্যাংড়া আম ভৌগলিক নির্দেশক (GI) পণ্য হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।
ল্যাংড়া আমের খোসা তুলনামূলক পাতলা এবং আঁটি ছোট হওয়ায় এতে শাঁসের পরিমাণ বেশি থাকে। শাঁস হলুদাভ, অত্যন্ত রসালো, সুগন্ধযুক্ত, মিষ্টি ও সম্পূর্ণ আঁশবিহীন। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ থেকে এই আম পাকতে শুরু করে এবং পুরো আষাঢ় মাসজুড়ে বাজারে পাওয়া যায়।
ল্যাংড়া আমের বৈশিষ্ট্য
- শাঁস হলুদাভ, রসালো ও আঁশবিহীন
- স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত
- গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৯.৭ সেন্টিমিটার
- গড় প্রস্থ প্রায় ৭.৩ সেন্টিমিটার
- উচ্চতা প্রায় ৫.২ সেন্টিমিটার
- গড় ওজন প্রায় ৩১৫ গ্রাম
- মিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ১৯.৭%
- খোসা পাতলা ও আঁটি ছোট
উৎকৃষ্ট মান, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য এবং অতুলনীয় স্বাদের কারণে ল্যাংড়া আম এখনও দেশের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন বাণিজ্যিক আমের জাত হিসেবে পরিচিত।



