Sale!

নকশি কাঁথা-C0002

Original price was: 3,000.00৳ .Current price is: 2,500.00৳ .

নকশি কাঁথা শুধু একটি হস্তশিল্প নয়; এটি বাঙালি সংস্কৃতি, নারীর সৃজনশীলতা ও সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। সময়ের সাথে সাথে এর চাহিদা যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সাংস্কৃতিক মূল্যও অমলিন থেকে যাচ্ছে।

নকশি কাঁথা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, যা বিশেষভাবে গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি একধরনের কাঁথা বা কম্বল। এটি শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর একটি উপকরণ নয়, বরং বাঙালি নারীদের সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি ও জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত।


নকশি কাঁথার পরিচয়:

  • অর্থ: “নকশি” মানে অলংকরণ বা ডিজাইন করা, আর “কাঁথা” মানে পুরনো কাপড় দিয়ে তৈরি হাত সেলাই করা চাদর বা কম্বল।

  • উৎপত্তি: এটি মূলত পুরনো শাড়ি বা ধুতির কাপড়গুলো স্তরে স্তরে সাজিয়ে সূচিকর্ম করে তৈরি করা হয়।

  • মূল স্থান: বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, রংপুর এবং জামালপুরে এটি বেশি প্রচলিত।


নকশি কাঁথার বৈশিষ্ট্য:

  1. হাতের সূচিকর্ম: সম্পূর্ণ হাতে সূচিকর্ম করা হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমসাধ্য।

  2. চিত্র ও গল্প: এতে ফুল, লতা-পাতা, মাছ, পাখি, মন্দির, গ্রামীণ দৃশ্য, সামাজিক অনুষ্ঠান এমনকি জীবনের নানা গল্প ফুটে ওঠে।

  3. রঙ ও ডিজাইন: সাধারণত উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি কাঁথার নকশা একেবারেই ভিন্ন ও অনন্য।

  4. উপাদান: পুরনো সুতির কাপড় (শাড়ি, লুঙ্গি ইত্যাদি) ও রঙিন সুতা।


সাংস্কৃতিক গুরুত্ব:

  • শিল্পরূপ: এটি বাঙালি নারীর নিজস্ব শিল্পের প্রকাশ।

  • সমাজচিত্র: নকশির মধ্য দিয়ে সমাজ ও সংসারের নানা ঘটনা, সুখ-দুঃখ, ইতিহাস ফুটে ওঠে।

  • লোকসাহিত্য: নকশি কাঁথাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ “নকশী কাঁথার মাঠ”, যা এই শিল্পকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।


আধুনিক ব্যবহার:

বর্তমানে নকশি কাঁথা শুধু ঘরের কম্বল বা চাদর হিসেবে নয়, বরং:

  • ওয়াল হ্যাংগিং

  • কুশন কাভার

  • থলে (ব্যাগ)

  • পোশাক ও গৃহসজ্জার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

Shopping Cart